ক্যাম্পের আশেপাশের বালিয়াড়ি বেয়ে উঠে এই এলাকার সবচেয়ে চমৎকার ভিউ পাওয়া যায় এমন একটি উঁচু স্থান থেকে আমরা সাহারা মরুভূমিতে সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করছি। আজ ভাগ্যবশত আবহাওয়া খুব ভালো ছিল, তাই বালিয়াড়ির চূড়া থেকে একদিকে যেমন বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত মরুভূমির দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল, ঠিক অন্যদিকে তেমনি তার ওপারে মারজুকার (Merzouga) শহরের মতো একটি আবছায়া জনবসতিও নজরে পড়ছিল। সূর্য যত নিচের দিকে নামছিল, বালিয়াড়ির রঙ ও ছায়া ততই পরিবর্তিত হচ্ছিল। এর ফলে দিনের বেলার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও অপরূপ এক সাহারার রূপ উপভোগ করা যাচ্ছিল।
সেদিন রাতে আমরা ক্যাম্পের আলো থেকে দূরে এক ঘুটঘুটে অন্ধকার জায়গায় গিয়ে তারামন্ডল বা রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণের আনন্দও উপভোগ করেছি। দুর্ভাগ্যবশত চারপাশটা এতটাই অন্ধকার ছিল যে ভিডিওতে তা ভালোভাবে ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে আশেপাশে কোনো কৃত্রিম আলোর প্রভাব না থাকায় মরুভূমির রাতের আকাশজুড়ে এত বিপুল পরিমাণ তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছিল, যা সাধারণত শহরের ব্যস্ত জীবনে কখনই দেখা যায় না। আমার মনে হয়, মরুভূমিতে রাত যাপন করার সবচেয়ে বড় আকর্ষণগুলোর একটি হলো কেবল সূর্যাস্তই নয়, বরং তার পরবর্তী চমৎকার রাতের আকাশ বা তারকারাজি উপভোগ করা।
উল্লেখ্য যে, রাতের আকাশ দেখার জন্য ক্যাম্প থেকে দূরে যাওয়ার সময় একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরি— মরুভূমিতে অন্ধকার হয়ে গেলে চারপাশের ল্যান্ডস্কেপ বা দৃশ্যপট অবিকল একই রকম দেখায়, যার ফলে দিক হারিয়ে ফেলা বা পথ ভুলে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। তাই একা একা বেশি দূরে না হেঁটে সবসময় গাইডদের সাথে থাকা উচিত, যাতে নিরাপদে ক্যাম্পে ফিরে আসা নিশ্চিত করা যায়।
প্রসঙ্গক্রমে বলি, তারভরা আকাশের দিকে তাকিয়ে যখন সেই অন্ধকারের মধ্য দিয়ে হাঁটছিলাম, তখন হঠাৎ করে চোখের সামনে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি উট দেখতে পেয়ে বেশ চমকে উঠেছিলাম। দিনের বেলার কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, এক নিস্তব্ধ মরুভূমির মাঝে শুধু উটগুলোর অবয়ব ভেসে ওঠার সেই দৃশ্যটি আজও আমার ভ্রমণের অন্যতম এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি হয়ে আছে।
সুযোগ পেলে চমৎকার সূর্যাস্ত থেকে শুরু করে লক্ষ তারায় ঘেরা রাতের আকাশে রূপ নেওয়া সাহারা মরুভূমির এই মায়াবী সময়টুকু আপনারা অবশ্যই নিজে এসে উপভোগ করবেন।